রন হক সিকদারের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিলামে তুলল জনতা ব্যাংক
বকেয়া ঋণ আদায়ে সিকদার গ্রুপের রন হক সিকদারের মালিকানাধীন পাওয়ারপ্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড নিলামে তুলেছিল জনতা ব্যাংক পিএলসি. এই নিলামে ব্যাংকের পাওনা ছিল প্রায় ৮৪২ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি।
নিলামের মূল তথ্য
প্রতিষ্ঠানের নাম: পাওয়ারপ্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড
মালিক: রন হক সিকদার
পাওনা পরিমাণ: ৮৪২ কোটি ৮২ লাখ টাকার বেশি (৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী)
নিলামকারী ব্যাংক: জনতা ব্যাংক পিএলসি (কর্পোরেট শাখা, মতিঝিল, ঢাকা)
শেষ সময়: ২৯ জানুয়ারি ২০২৫, বিকেল ৩টা পর্যন্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল
আপনি কি এই নিলামের বর্তমান অবস্থা, সিকদার গ্রুপের অন্যান্য ব্যাংকের ঋণ বা আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানতে চান?
বর্তমান অবস্থা
জনতা ব্যাংক কর্তৃক সিকদার গ্রুপের ‘পাওয়ারপ্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড’ নিলামে তোলার পর এর আইনি প্রক্রিয়া এবং ব্যাংকের ঋণ আদায়ের কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। এই নিলাম এবং সিকদার গ্রুপের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হালনাগাদ বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. নিলাম ও আইনি পদক্ষেপের বর্তমান অবস্থা
মামলার প্রস্তুতি: ব্যাংকিং খাতের নিয়ম অনুযায়ী, বড় অঙ্কের এই নিলামে যদি আশানুরূপ দরদাতা বা সাড়া না পাওয়া যায়, তবে ব্যাংক পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ অনুযায়ী আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করে। জনতা ব্যাংক এই বকেয়া ৮৪২.৮২ কোটি টাকা উদ্ধারে আইনি পথে হাঁটছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিস্থিতি: জামালপুরের এই ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বর্তমানে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। বিগত সময়ে কেন্দ্রটিতে বড় ধরনের ডাকাতি ও নিরাপত্তাহীনতার ঘটনাও ঘটেছিল।
২. সিকদার গ্রুপের বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি
নেতৃত্বের শূন্যতা: সিকদার গ্রুপের অন্যতম প্রধান পরিচালক এবং বিতর্কিত ব্যবসায়ী রন হক সিকদার ২০২৬ সালের মে মাসে দুবাইয়ে মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর গ্রুপটির ব্যবসায়িক ও আইনি সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
মালিকপক্ষের অনুপস্থিতি: ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সিকদার পরিবারের অন্য সদস্যরা আইনি জটিলতা ও ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে স্থায়ীভাবে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। দেশে তাঁদের কোনো বাণিজ্যিক বা সাংগঠনিক উপস্থিতি নেই। [1]
৩. সামগ্রিক ঋণের বোঝা
শীর্ষ ঋণখেলাপি: বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকায় সিকদার গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান (পাওয়ারপ্যাক কেরানীগঞ্জ ও জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট) দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মোট ঋণ: বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শুধু এই জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্টের নামেই প্রায় ২,২২১ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। এছাড়া সম্পূর্ণ সিকদার গ্রুপের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
ব্যাংকটি তাদের নিজস্ব নিয়ম মেনে বন্ধকী সম্পত্তি (জমি, অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি) ক্রোক বা বিক্রির মাধ্যমে টাকা তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে


0 Comments